সিহাহ সিত্তাহ কিতাব সমূহ

ইসলামিক কিতাব সমূহ

মালফুযাত 

হযরতজী মাওলানা ইউসুফ রহ. বলেন! ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ’ এর মধ্যে নিজের একীন ও বিশ্বাস এবং নিজের এবাদত ও পদ্ধতিকে পরিবর্তন করার দাবী বিদ্যমান রয়েছে ।
শুধু একীন পরিবর্তনের কারণেই আল্লাহ্ পাক এই আসমান-জমিন থেকে কয়েকগুণ বড় জান্নাত দান করবেন। যে সমস্ত বস্তু থেকে একীন বের হয়ে আল্লাহ পাকের সত্তায় আবদ্ধ হবে, এই সমস্ত বস্তুকে আল্লাহ পাক তার অধীনস্থ করে দেবেন। এই একীনকে নিজের মধ্যে সৃষ্টি করার জন্য প্রথমতঃ এই একীনের দাওয়াত দিতে হবে। আল্লাহর বড়ত্বকে বুঝাতে হবে। তাঁর প্রতিপালনকে বুঝাতে হবে। তাঁর কুদরত ও ক্ষমতাকে বুঝাতে হবে। আম্বিয়া (অ) ও সাহাবী (রা) দের ঘটনাবলি শুনাতে হবে। নিজে একাএকা বসে চিন্তা ফিকির করতে হবে। অন্তরে এই একীন বসাতে হবে যে, যার দাওয়াত জনসম্মখে দেয়া হলো, এটাই হক ও সত্য।এবং কেঁদে কেঁদে দোয়া করতে হবে যে, আয় আল্লাহ! এই একীনের হাকীকত আমাদের দান করুন ।

আরো দেখুন

হযরতজী মাওলানা ইউসুফ রহ.  বলেন ! আল্লাহ জাল্লাশানুহু সমস্ত সৃষ্টি কুলের প্রতিটি কণা কণার এবং প্রতিটি ব্যক্তির খালেক ও মালেক। প্রতিটি বস্তুকে আপন কুদরত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তিনি বানানে ওয়ালা। নিজে নিজে কিছু সৃষ্টি হয়নি। আর যে নিজে নিজে সৃষ্টি হয়, তার থেকে অন্য কিছু সৃষ্টি হয় না। যা কিছু কুদরত দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে তা কুদরতেরই অধীন। প্রতিটি বস্তুর উপর তাঁর অধিকার আছে। তিনিই প্রতিটি বস্তুকে ব্যবহার করেন। তিনি আপন কুদরত দ্বারা ঐ সমস্ত বস্তুর আকৃতিও পরিবর্তন করতে পারেন। আবার আকৃতিকে বহাল রেখে তার গুনাবলীকেও পরিবর্তন করতে পারেন। লাঠিকে সাপ বানাতে পারেন, আবার সাপকে লাঠি বানাতে পারেন। এভাবে প্রতিটি নকসার ওপর চাই মুলুক হোক বা মাল হোক, বিদ্যুৎ হোক বা বাষ্প হোক তাঁরই অধিকার প্রতিষ্ঠিত। এবং তিনিই জোর খাটাতে পারেন। যেখান থেকে মানুষের নির্মাণ নজরে আসে, সেখান থেকে তিনি বরবাদী এনে দেখাতে পারেন। আর যেখান থেকে বরবাদী নজরে আসে, সেখান থেকে তিনি নির্মাণ এনে দেখাতে পারেন। লালন-পালন ব্যবস্থাপনা তিনিই চালান। কোন বস্তু ছাড়া বালুরাশির উপরেও পালতে পারেন, আবার সমস্ত সরঞ্জামাদির মধ্যে রেখেও প্রতিপালনের ব্যবস্থা বিগড়ে দিতে পারেন।

আরো দেখুন

হযরতজী মাওলানা ইউসুফ রহ.  বলেন! আল্লাহ তায়ালার পবিত্র জাতের সাথে সম্পর্ক হওয়া চাই, এবং তাঁর কুদরতের মাধ্যমে সরাসরি ফায়দা হাসিল করা চাই। এর জন্যে হজরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে এক পদ্ধতি নিয়ে এসেছেন। যখন তাঁর তরীকা জীবনে বাস্তবায়িত হবে, তখন আল্লাহ জাল্লাশানুহু প্রতি নকসার মধ্যে কামিয়াবী দিয়ে দেখিয়ে দেবেন।

ইসলামিক গল্প

জনগণের আরামের  জন্য সরকার সুদ এর প্রচলন করেছে| প্রকাশ্য দৃষ্টিতে মনে হয় যে সরকার জনগণকে অত্যাধিক আদর করছে| বিনা পরিশ্রমে তাদেরকে (সুদ-নীতিতে) কখনও প্রাইজ কখনও লাভ, কখনও বোনাস, কখনও ইন্টারেস্ট নাম দিয়ে রকম-রকম আর্থিক সুবিধা প্রদান করে চলেছে। কিন্তু বিনাশ্রমে এই সব সুবিধা পেয়ে জনগণ যে অলস, অকর্মণ্য এবং অক্ষম হয়ে দিন দিন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং আত্মার মৃত্যু হয়ে দ্বীনি আগ্রহ ও উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলছে সেদিকে কেউ লক্ষ্য করছে না। সরকারের মনোভাব হল সেই স্ত্রীলোকটির মত যে তার সতীনের ছেলেটিকে অত্যাধিক আদর করতো।

অর্থাৎ সেই স্ত্রীলোকটির দুইটি ছেলে ছিল। একটি নিজের ছেলে অপরটি সতীনের ছেলে। সে সতীনের ছেলেটিকে সব সময় কোলে রাখতো। উঠতে-বসতে চলতে-ফিরতে ছেলেটিকে কখনও কোল থেকে নামাতো না। এমনকি কোলে কাঁখে নিয়েই সংসারের কাজ কাম করতো। পাড়ায় বেড়াতে গেলে সতীনের ছেলেটিকে কোলে এবং নিজের ছেলেটিকে হাত ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে যেতো। পাড়ার মেয়েরা সব প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে  উঠলো। সবাই বলতে লাগল, মেয়েটির মনে একটুও হিংসা নাই। সতীনের ছেলেকে কোলে আর নিজের ছেলেকে হাঁটিয়ে নিয়ে বেড়ায়। সতীনের ছেলেকে এত আদর করতে আর কোথাও দেখা যায় না। এরূপ সতী সাদী নারী আর হয় না।

  কিন্তু একদিন পাড়ার একটি মেয়ে লোক এসে গোপনে সহানুভূতি স্বরূপ বলল, বুবু! নিজের ছেলেকে অবহেলা করে সতীনের ছেলেকে এত আদর করা ঠিক হবে না। তাতে নিজেরই ক্ষতি।

  মেয়ে লোকটি বলল, না বুবু! এটা আমার ছেলের প্রতি অবহেলা নয়। নিজের ছেলেকে হাটিয়ে নিয়ে  বেড়াই যেন তার পা শক্ত হয় এবং স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে মজবুত হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর সতীনের ছেলেকে কোলে নিয়ে বেড়াই যেন সে কোনদিন হাঁটতে না শেখে। কোলে থাকতে থাকতে অচল এবং পঙ্গু হয়ে কোনদিন সে সমাজে মুখ তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এটা সতীনের ছেলের প্রতি আদর নয়। কিন্তু মানুষ বুঝতে না পেরে আমার প্রশংসা করছে তা আমি কি করবো?

ঠিক সেইরূপভাবে জাতি সুদ খেয়ে খেয়ে শ্রমবিমুখ হউক; অলস এবং অকর্মণ্য হউক পঙ্গু হয়ে ধ্বংস প্রাপ্ত হউক। কিন্তু সরকার অবুঝ লোকদের প্রশংসা পেয়ে ধন্য গর্বিত এবং আহ্লাদিত।

আরো দেখুন